প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বিশেষ টেলিফোন লাইনের তার চুরির ঘটনা নিয়ে আলোচনা শেষ না হতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরির ঘটনা সামনে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর থেকে ল্যাপটপ হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর প্রবাসী কল্যাণ ভবনের ১৬ তলায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চুরি হওয়া ল্যাপটপটি এইচপি ব্র্যান্ডের। এটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম ব্যবহার করতেন।
একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর আরও কয়েকজন বিশেষ সহকারীর দপ্তর থাকায় ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে একান্ত সচিব নিজের কক্ষে প্রবেশ করার কিছু সময় পর টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে অফিসের বিভিন্ন কক্ষ ও আশপাশের এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়েও সেটির কোনো সন্ধান মেলেনি।
ঘটনার পর ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তিকে একটি কালো ব্যাগ নিয়ে ভবন ত্যাগ করতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও ওই ব্যাগে চুরি হওয়া ল্যাপটপ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ভবনের বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চালানো হয়। উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগও পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থাকা সত্ত্বেও ওই তলায় দর্শনার্থীদের চলাচলের ওপর পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ নেই। অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই বিভিন্ন ব্যক্তি অফিস এলাকায় প্রবেশ করতে পারেন।
তাদের মতে, বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশ কিছু দুর্বলতা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পুরো ভবনের তুলনায় নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কম হওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
তিনি জানান, বর্তমানে মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য ভবনের নিরাপত্তা দায়িত্ব পালন করছেন। জনবল বৃদ্ধি করা গেলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা সম্ভব হবে।
এদিকে ল্যাপটপ চুরির ঘটনায় অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। প্রযুক্তিগত তথ্য ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।