বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্কের স্থবিরতা পুরোপুরি কাটেনি। বাণিজ্য, ভিসা ও সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে ঢাকার নীতিনির্ধারণী মহলে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতা গ্রহণের আগে ও পরে ভারত একাধিকবার কূটনৈতিক যোগাযোগ করলেও সেগুলোকে পর্যাপ্ত মনে করছে না বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপির একটি অংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর, ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর এবং শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আরোপিত কিছু বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহার করা হবে। বিশেষ করে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা, ব্যবসা ও চিকিৎসা ভিসা এবং বাংলাদেশি পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকারের বিষয়ে ইতিবাচক উদ্যোগ আসবে। তবে এসব ক্ষেত্রে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ঢাকা বর্তমানে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন, ভিসা সহজীকরণ এবং বাণিজ্যিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু এসব বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় বিকল্প কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে মনোযোগ বাড়ানো হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী হয়েছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এদিকে বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ একদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে চাইবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক স্বার্থে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতাও বাড়াবে। ফলে আগামী মাসগুলোতে ঢাকার কূটনৈতিক অগ্রাধিকারে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমুখী কৌশল দেখা যেতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।