৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের পুলিশ বাহিনী বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। সহিংসতা ও জনরোষের ঘটনায় অনেক পুলিশ সদস্য আত্মগোপনে চলে যান এবং নেতৃত্বেও একাধিক পরিবর্তন আসে। এরপর একাধিক দফায় বাহিনীকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি পুলিশ।
সূত্র বলছে, পুলিশের মনোবল ও পেশাগত কার্যক্রমে এখনো এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে। ৫ আগস্টের ঘটনার মানসিক প্রভাব অনেক সদস্য এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি বলে আলোচনা রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর ২৮৩টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অনেক সদস্য আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার কারণে মাঠপর্যায়ে পুলিশের কর্মকাণ্ডে সতর্কতা বাড়লেও অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব এড়িয়ে চলার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এদিকে বাহিনীর ভেতরে গ্রুপিং, বদলি-অসন্তোষ এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিভিন্ন তদন্ত ও বাধ্যতামূলক অবসরের কারণে অনেক কর্মকর্তা মানসিক চাপে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব কারণ মিলিয়ে মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রভাব পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই, খুন, ডাকাতি ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
ঢাকা মহানগর এলাকায় প্রকাশ্যে অপরাধের ঘটনাগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। মোহাম্মদপুর, আদাবর, মগবাজার ও হাতিরঝিল এলাকায় রাতের সময় অপরাধমূলক তৎপরতা নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা ও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বাহিনীকে আগের মতো সক্রিয় ও মনোবলসম্পন্ন করতে সময় লাগবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পেশাগত সক্ষমতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
তবে পুলিশের একাংশ দাবি করছে, তারা আগের তুলনায় বেশি সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব পরিস্থিতি ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে পুলিশের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।